Posts

Showing posts from January, 2021

উত্তর সাগর জয়ীতা চ্যাটার্জী

Image
  উত্তর সাগর জয়ীতা চ্যাটার্জী আজ আমার দেশ ছেড়ে শীত চলে যায়, প্রথম দখিন এসেছিল সে দিন আমার বারান্দায় চোখের থেকে খসে গেছিল ঘুম আমি জেগে উঠলাম বসন্তের দেশে জমানো ফেনার মতো তোমাকে দেখলাম নদীর কিনারায় জল যেমন মেশে। আজ ও তুমি খুঁজে যাও ঘুমন্ত সে চোখ আমি কোথায় বুজি, উত্তর সাগরে আজ আর নেই কেউ উঁচু নীচু পাথরের ভেতরে ঢাকা পড়ে গেছে সবই। জ্যোৎস্না আর সাগরের ঢেউ হাতে হাত ধরে নাচে, কখন জাগছে তারা, আবার ঘুমিয়েছে কখন সাদা ঢেউয়ের কাছে। জড়িয়ে জড়িয়ে ধরো তুমি সাগরের জলের মতন, ঠান্ডা সাদা বরফের কুঁচির মতন, আমার মুখ চোখ ভিজে যায় পিছল হয় শরীর ঢেউয়ের ফেনাদের মতন। কাঁচের গুড়ির মতো শিশিরের জল তোমার বুকের থেকে ঝরে উত্তর সাগরে, চেনা পথ দিয়ে তারা চলে যায় সাগরের গায়ে রক্ত আমার পায়ে ঝরে তোমার কাঁকড়ে। ।

খেঁদিদির প্রেম পত্র ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম

Image
  খেঁদিদির প্রেম পত্র ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম খেঁদিদি লিখেছে এক প্রেমপত্রর। আমার হাতে দিয়ে বলল, পৌঁছে দিয়ে আয় এটি তুই স্বত্বর! আমার আমি তখন চলল। দমে সাইকেলে প্যাটেল ঘুরিয়ে। রাস্তার ধূলো উড়িয়ে। গিয়ে দেখি- এ কি? খেঁদিদির প্রেমিকের বাড়িতে তালা ঝুলছে। আর সেটা ধরে এক মাকড়সা দুলছে। আমি খানিক ভেবে এদিকে ওদিকে তাকালাম। তারপরে ফের উল্টোদিকে সাইকেল হাঁকালাম। ফিরে এসে ফেরৎ দিলাম পত্রর। বললাম, এই যে পত্রর তোর! খেঁদিদি জিজ্ঞাসা করে, এ ক্যামন কান্ড তোর? চিঠি না দিয়েই তাকে ফিরে এলি, বেশরম, কোথাকার! আমি বলি রেগেমেগে, তুই ভালোবেসেছিস যাকে, সে তো তোকে ছেড়ে গিয়েছে ভেগে। তুই হলি এক খালি ডাব্বা, বোকার। খেঁদিদি কান্নায় ভেঙে পরে। সাধ ছিল বধূ হয়ে যাবে পরে ও প্রেমিক বরের ঘরে। সবটাই ধোঁকা। সত্যিই ও খুব বোকা!

গর্ভগৃহ প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ

Image
  গর্ভগৃহ প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ মা পোয়াতি হলে গর্ভগৃহে ঈশ্বর জেগে ওঠে শঙ্খধ্বনি আসলে মানবতার আওয়াজ ধূপের গন্ধ সিরিয়াল কিলারের গল্পের মতো ছড়িয়ে যায় দূরে, কাছে যে শিশুর জন্ম হবে আজ তাকে সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে এসো, বর্ম খুলে রাখি নিরাপদ তোরঙে এসো, গর্ভগৃহের পবিত্রতা বজায় রাখি।

ধারাপাতের হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ সরকার

Image
  ধারাপাতের হিসাবে _________________ শ্যামাপ্রসাদ সরকার (এক) আজ সকালে ঘুম ভেঙে অভীক দেখল যে সুতৃপ্তি আগেই উঠে গেছে। রান্নাঘরে টুংটাং শব্দে বুঝল যে    একটু পরেই চা আসছে। সুতৃপ্তিকে বিয়ের আগে থেকেই ও জানতো যে ওর বউ আর্লি রাইজার নয়। তাহলে এই রোববার সাততাড়াতাড়ি উঠে চা বানাতে কেন উঠল? অভীক মুখহাত ধুয়ে রান্নাঘরে গেল। গ্যাসে তখন চা ফুটতে ফুটতে কালো হয়ে গেছে আর সুতৃপ্তি স্থাণুর মত সেটাই একমনে দেখছে।  ও যেন একটা পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে।  অভীক ওকে ডাকলনা। বরং গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে নিঃশব্দে গিয়ে বউকে বুকে জড়িয়ে ধরল।  সুতৃপ্তি তখন  যেন কোন একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। অভীকের আলিঙ্গনেও সেটা কাটলো না। এই অসুখটা তো আর নতুন নয়। এটা আসলে নিউরোট্রান্সমিটার ইমব্যালেন্স। এই রোগটাই যে এমন। অভীককে মাঝেমাঝে ও চিনতেও পারেনা তবুও অভীক ওর যত্ন নেয় আগের মতোই। সুতৃপ্তিকে ছাড়া যে ওর কাউকেই ভালো লাগেনা আর।  অভীক আর সুতৃপ্তির অনেকদিনের রিলেশান। কলেজজীবনের থেকেই। তবে ওরা অবশ্য দ্বিতীয়বার এক সাথে থাকার সুযোগ পেয়েছে  এই সবে ক'মাস হলো। আড়াই বছরেের বিবাহিত জীবনের শেষে অনিবার্য সেই ডিভোর...

কোথা তুমি প্রাণধন..শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

Image
  কোথা তুমি প্রাণধন.. -----------/---------------- শ ‍ ্যামাপ্রসাদ সরকার। (১) 'মনপুর হতে আমার হারায়েছে মন/ কাহারে কহিব, কারে দোষ দিব/ নিলে কোন্‌ জন।...' এই গানটাই গুনগুন করতে করতে কাল রাতে লিখে সুর বসিয়েছেন নিজেই।শেষরাতে শয ‍ ্যাত ‍ ্যাগ করে রামনিধি ধীরে ধীরে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। আস্তে আস্তে অন্ধকার কেটে সূর্যোদয়ের এই নিভৃত ক্রম উন্মেষ মুহূর্তটি তাঁকে আজকাল বড় টানে। অথচ কদিন আগেও এই বৈরাগ ‍ ্যের বদলে ঘরগৃহস্থালীতে একেবারে পূর্ণ ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মনোরমার চোখের সামনে তিনদিনের ভিতর ভেদবমিতে মৃত ‍ ্যু হয়ে তাঁর এই খেলাঘরটির সবকিছু তছনছ করে দিয়ে গেছে। অথচ একদা নিজে বেলা করেই নিদ্রাভঙ্গে অভ ‍ ্যস্ত ছিলেন। গৃহিণীর আদরযত্নে অভাবের সংসারটিও আনন্দময় ছিল। মনোরমার চলে যাওয়ায় অতিপরিচিত নিজের ঘরটিকেও আজকাল বড় শূন ‍ ্য মনে হয়। এই অবস্থায় সঙ্গীত ছাড়া আর কিছুই তাঁর মনকে সান্ত্বনা দিতে অক্ষম। এরপর হাতমুখ ধুয়ে একটু গঙ্গার ধারটাতে এসে বসলেন। এত ভোরে স্নানার্থীদের আসা যাওয়া শুরু হয়েছে। জয় রাধে! জয়রাধে! গাইতে গাইতে সঙ্গে টুংটুং করে খঞ্জনীটি বাজিয়ে দীনু বোষ্টম বৈতালি...

দেখা এবং বর্ণজিৎ বর্মন

Image
  দেখা এবং বর্ণজিৎ বর্মন গাছেরা দেখতে পায় না তবে ঝরনার মতো কাঁদে পূর্ণিমায় যে রাতে চোরা শিকারীরা রুপালি কুঠার হাতে বলে , আজ এই ছয়ফুটি নিমটা বিট অফিসার লবণ সরবত পান করে গরম থেকে বাঁচতে ছলনার টাঁক তবু ফুটতে থাকে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা হয় না ঘুষের টাকায় খাঁচার পায়রাও অচিন দেশে ফিরে গেছে আমি হেমন্তের দর্শক চোখে দেখি এবং গোধূলির শব্দে ঘুম আঁকি, তুমি বন্ধু জলের নদী পেরিয়ে এসো।

পাখি জন্ম @ মৌসুমী মৌ

Image
  পাখি জন্ম @ মৌসুমী মৌ মেঘেদের দলে জুটে দলছুট যে পাখির দল! ইচ্ছের ডানা মেলে বহুদূরে উড়ে যাওয়া ছল... গাছেদের পাড়া ছেড়ে তাদের আজ আকাশেই ঘর … ঘর যাকে পর করে, ভালোবাসা মস্ত জাদুকর l বৃষ্টি হয়তো জানে পাখিদের কান্নার রঙ ! জানলার সার্সিরা জলরঙে সেজেছে যেমন মেঘ হয়তো বোঝে অভিমান কতটা মিশেছে ... পাখিদেরও জানা আছে ভালোবাসা জন্ম ছোঁয়াচে… ডানায় লেপ্টে তবু আদরের মিশুক পালক উদাসীন গাছ জানে পাখিরা আসলে পলাতক … ডানায় যন্ত্রনা তবু মনে মনে পাখি হতে চাওয়া আকাশের গানে কোন বিবাগী সুর ছুঁয়ে যাওয়া ! এভাবেই ছেড়ে যাওয়া পৃথিবীর নষ্ট রূপকথা বুকের গভীরে লেখা লুকোনো ডানার কবিতা ...

রক্ত ক্ষরণ শ্যামল রায়

Image
  রক্ত ক্ষরণ শ্যামল রায় দেওয়াল ঘড়ির কাঁটা কত বার ঘুরলে তবে ভোরের পাখি জাগবে। দিনের শেষে চাঁদ হাসি মুখে আবার বাগান জুড়ে থাকবে। হাঁটতে হাঁটতে বেলা শেষ হলে কখন ক্যানভাসের গায়ে রং তুলি জুটবে! আর ও কতকাল কত মন ব্যথা আড়াল করে শত শত রক্ত ক্ষরণ গায়ে হলুদ মেখে ডাকবে !

উৎসর্গ সঞ্জীব সেন

Image
  উৎসর্গ সঞ্জীব সেন ঘাসমাটি মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে যে ফুলছাপ শাড়ি,ভেজা স্নান-জলে সদ্য জন্মানো দুটো সাদা প্রজাপতি ফুলগুলো সত্যি ভেবে পিছন পিছন ধায়,, তখনই ফিরে এল কবিতা,,,, রাইটার’স ব্লক মানে কবিদের মনখারাপ, ফিরে এসে সেই তো অন্ধকার ঘর মেস বাড়ি, একটু আগে এক মৃত কবির কবরের পাশে কাগজফুলের গাছ থেকে কয়েকটা ফুল এনে টেবিলে রাখলাম, আজ কোনো স্বীকারোক্তি নয়, অনুশোচনা নয় , কবিতাকে চুম্বন করলাম, ওকে তো পাবো না কোনোদিন ! কাগজফুলগুলোয় কেমন রোদ এসে পরেছে আজ আর কোনো স্বীকারোক্তি নয় , অনুশোচনা নয়, যে মেয়েকে পাবোনা কোনোদিন, তার নামেই এই কবিতা উৎসর্গ করব ভেবেছি।

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস বিপ্লব গোস্বামী

Image
  আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস বিপ্লব গোস্বামী আজ ২ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস।ভারত সহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আজ এই দিনটি আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে। আজকের দিনে অর্থাৎ ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২ রা অক্টোবর গুজরাট প্রদেশের অন্তর্গত পোরবন্দর নামক স্থানে অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারতের জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্ম হয়।তাঁর আসল নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।তাঁর পিতার নাম কাবা গান্ধী ও মাতার নাম পুতলিবাঈ। উনিশ বছর বয়সে তিনি উচ্ছ শিক্ষার জন ‍ ্য বিলেত যান এবং ব ‍ ্যারিস্টারি পাশ করে ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে দেশে প্রত ‍ ্যাবর্তন করেন।এই সময় তাঁর দাদাভাই নৌরজি ও গোপালকৃষ্ণ গোখলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং তিনি জাতীয়তার মন্ত্রে দীক্ষিত হন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি এক জটিল মোকদ্দমার ভার নিয়ে আফ্রিকায় যান।সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়রা শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের হাতে উৎপীড়ীত ও লাঞ্ছিত হচ্ছিল।ভারতীয়দের প্রতি এইরূপ আচরণে তাঁর মনে আত্মসম্মানবোধ ও দেশাত্মবোধ জেগে উঠে।দেশবাসীকে স্ব-মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন ‍ ্য সেখানে তিনি সত ‍ ্যাগ্ৰহ আন্দোলন আরম্ভ করেন।এই আন্দোলনই ছিল প্র...

আগের মতো বিদ্যুৎ মিশ্র

Image
  আগের মতো বিদ্যুৎ মিশ্র যে ফুল গুলো ঝরে পড়েছিলো একদিন আমি যত্ন করে কুড়িয়ে এনেছিলাম সাজিয়ে রেখেছিলাম সমাধি করে বাগিচার একটি কোনে; সেই মৃত ফুল গুলোর সাথে এখন নিজের খুব মিল খুঁজে পাই। সমস্ত সৌন্দর্য প্রাণ বায়ু বিলিয়ে দেওয়ার পর যেমন কেউ ছুঁড়ে ফেলেছিলো আমাকে। আমার মৃত বিবর্ণ শুকিয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ড কেউ যত্ন তুলে রাখেনি। এখন আর বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করে না আগের মতো আর হাত বাড়িয়ে দেবদারু গাছের কাছে ডাকে না। স্রোতের টানে বয়ে চলা মানুষ গুলো দু মুঠো ভাতের জন্য সারা জীবন হাত জোড় করে বসে থাকে। আমরা শুধু হা হুতাশ আলাপ করি বদলে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে। আমি জানি এই অহঙ্কার এই উপলব্ধি চিরদিনের নয়। তোমার এই মিথ্যে অভিনয় বুঝতে পারি চুপ করে হেসে উঠি তোমার চতুরতায় এখন আর বিশ্বাস হয় না আগের মতো।

দেবদাস কুণ্ডুর কবিতা

Image
  কবিতা :অপেক্ষা /দেবদাস কুণ্ডু ধৈর্য ধরো, অপেক্ষা করো শিশু গাছগুলি বেড়ে উঠুক পাখির ছানা হয়ে উঠুক কোকিল কন্ঠ তোমার আদরের সন্তান বেড়ে উঠুক হাঁটতে শিখুক, শিখুক হাসতে দেখবে তোমার বাড়ির উঠোনে নেমে এসেছে নিশুতি রাতের চাঁদ ধূলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে মহাকাশের নক্ষত্রেরা। _____________________________________ কবিতা - 2 ছবি দেবদাস কুণ্ডু আমার নাতির অমলিন মুখে আমি দেই অজস্র চুম্বন পৃথিবী দেখে আর হাসে বলে, এমন অপূর্ব ছবি এর আগে আঁকেনি কোন শিল্পী।

কবিতার নামঃ অধরা উপলব্ধি কলমে- কনককান্তি মজুমদার

Image
  কবিতার নামঃ অধরা উপলব্ধি কলমে- কনককান্তি মজুমদার ' শান্তি ' এক অদেখা অচেনা অনুভূতি অধরা উপলব্ধি, মনুষ্য মনাকাশ যখন সাংসারিক-সামাজিক ঝড়-ঝঞ্ঝায় বিপর্যস্থ বিচ্ছুরিত বিজলীর আলোকে উদ্ ভ্রান্ত অস্থির তোলপাড়, সেই সন্ধিক্ষণে যার কাছে দিশেহারা মানুষ মুক্তির খোঁজ করে তাই শান্তি নামের পরস পাথর! পাওয়া মানে মনের আরাম, শরীরের স্থিততা, নিশ্চিন্ত সুখো নিদ্রা । আর এর অভাব মানে জীবন ব্যতিব্যস্ত, সব কিছু থেকেও শুধু এই একের অনুপস্থিতিতে জীবন বিপন্ন। ' শান্তি ' তাই মনুষ্য জীবনের একমাত্র কামনা!