Posts

উত্তর সাগর জয়ীতা চ্যাটার্জী

Image
  উত্তর সাগর জয়ীতা চ্যাটার্জী আজ আমার দেশ ছেড়ে শীত চলে যায়, প্রথম দখিন এসেছিল সে দিন আমার বারান্দায় চোখের থেকে খসে গেছিল ঘুম আমি জেগে উঠলাম বসন্তের দেশে জমানো ফেনার মতো তোমাকে দেখলাম নদীর কিনারায় জল যেমন মেশে। আজ ও তুমি খুঁজে যাও ঘুমন্ত সে চোখ আমি কোথায় বুজি, উত্তর সাগরে আজ আর নেই কেউ উঁচু নীচু পাথরের ভেতরে ঢাকা পড়ে গেছে সবই। জ্যোৎস্না আর সাগরের ঢেউ হাতে হাত ধরে নাচে, কখন জাগছে তারা, আবার ঘুমিয়েছে কখন সাদা ঢেউয়ের কাছে। জড়িয়ে জড়িয়ে ধরো তুমি সাগরের জলের মতন, ঠান্ডা সাদা বরফের কুঁচির মতন, আমার মুখ চোখ ভিজে যায় পিছল হয় শরীর ঢেউয়ের ফেনাদের মতন। কাঁচের গুড়ির মতো শিশিরের জল তোমার বুকের থেকে ঝরে উত্তর সাগরে, চেনা পথ দিয়ে তারা চলে যায় সাগরের গায়ে রক্ত আমার পায়ে ঝরে তোমার কাঁকড়ে। ।

খেঁদিদির প্রেম পত্র ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম

Image
  খেঁদিদির প্রেম পত্র ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম খেঁদিদি লিখেছে এক প্রেমপত্রর। আমার হাতে দিয়ে বলল, পৌঁছে দিয়ে আয় এটি তুই স্বত্বর! আমার আমি তখন চলল। দমে সাইকেলে প্যাটেল ঘুরিয়ে। রাস্তার ধূলো উড়িয়ে। গিয়ে দেখি- এ কি? খেঁদিদির প্রেমিকের বাড়িতে তালা ঝুলছে। আর সেটা ধরে এক মাকড়সা দুলছে। আমি খানিক ভেবে এদিকে ওদিকে তাকালাম। তারপরে ফের উল্টোদিকে সাইকেল হাঁকালাম। ফিরে এসে ফেরৎ দিলাম পত্রর। বললাম, এই যে পত্রর তোর! খেঁদিদি জিজ্ঞাসা করে, এ ক্যামন কান্ড তোর? চিঠি না দিয়েই তাকে ফিরে এলি, বেশরম, কোথাকার! আমি বলি রেগেমেগে, তুই ভালোবেসেছিস যাকে, সে তো তোকে ছেড়ে গিয়েছে ভেগে। তুই হলি এক খালি ডাব্বা, বোকার। খেঁদিদি কান্নায় ভেঙে পরে। সাধ ছিল বধূ হয়ে যাবে পরে ও প্রেমিক বরের ঘরে। সবটাই ধোঁকা। সত্যিই ও খুব বোকা!

গর্ভগৃহ প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ

Image
  গর্ভগৃহ প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ মা পোয়াতি হলে গর্ভগৃহে ঈশ্বর জেগে ওঠে শঙ্খধ্বনি আসলে মানবতার আওয়াজ ধূপের গন্ধ সিরিয়াল কিলারের গল্পের মতো ছড়িয়ে যায় দূরে, কাছে যে শিশুর জন্ম হবে আজ তাকে সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে এসো, বর্ম খুলে রাখি নিরাপদ তোরঙে এসো, গর্ভগৃহের পবিত্রতা বজায় রাখি।

ধারাপাতের হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ সরকার

Image
  ধারাপাতের হিসাবে _________________ শ্যামাপ্রসাদ সরকার (এক) আজ সকালে ঘুম ভেঙে অভীক দেখল যে সুতৃপ্তি আগেই উঠে গেছে। রান্নাঘরে টুংটাং শব্দে বুঝল যে    একটু পরেই চা আসছে। সুতৃপ্তিকে বিয়ের আগে থেকেই ও জানতো যে ওর বউ আর্লি রাইজার নয়। তাহলে এই রোববার সাততাড়াতাড়ি উঠে চা বানাতে কেন উঠল? অভীক মুখহাত ধুয়ে রান্নাঘরে গেল। গ্যাসে তখন চা ফুটতে ফুটতে কালো হয়ে গেছে আর সুতৃপ্তি স্থাণুর মত সেটাই একমনে দেখছে।  ও যেন একটা পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে।  অভীক ওকে ডাকলনা। বরং গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে নিঃশব্দে গিয়ে বউকে বুকে জড়িয়ে ধরল।  সুতৃপ্তি তখন  যেন কোন একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। অভীকের আলিঙ্গনেও সেটা কাটলো না। এই অসুখটা তো আর নতুন নয়। এটা আসলে নিউরোট্রান্সমিটার ইমব্যালেন্স। এই রোগটাই যে এমন। অভীককে মাঝেমাঝে ও চিনতেও পারেনা তবুও অভীক ওর যত্ন নেয় আগের মতোই। সুতৃপ্তিকে ছাড়া যে ওর কাউকেই ভালো লাগেনা আর।  অভীক আর সুতৃপ্তির অনেকদিনের রিলেশান। কলেজজীবনের থেকেই। তবে ওরা অবশ্য দ্বিতীয়বার এক সাথে থাকার সুযোগ পেয়েছে  এই সবে ক'মাস হলো। আড়াই বছরেের বিবাহিত জীবনের শেষে অনিবার্য সেই ডিভোর...

কোথা তুমি প্রাণধন..শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

Image
  কোথা তুমি প্রাণধন.. -----------/---------------- শ ‍ ্যামাপ্রসাদ সরকার। (১) 'মনপুর হতে আমার হারায়েছে মন/ কাহারে কহিব, কারে দোষ দিব/ নিলে কোন্‌ জন।...' এই গানটাই গুনগুন করতে করতে কাল রাতে লিখে সুর বসিয়েছেন নিজেই।শেষরাতে শয ‍ ্যাত ‍ ্যাগ করে রামনিধি ধীরে ধীরে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। আস্তে আস্তে অন্ধকার কেটে সূর্যোদয়ের এই নিভৃত ক্রম উন্মেষ মুহূর্তটি তাঁকে আজকাল বড় টানে। অথচ কদিন আগেও এই বৈরাগ ‍ ্যের বদলে ঘরগৃহস্থালীতে একেবারে পূর্ণ ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মনোরমার চোখের সামনে তিনদিনের ভিতর ভেদবমিতে মৃত ‍ ্যু হয়ে তাঁর এই খেলাঘরটির সবকিছু তছনছ করে দিয়ে গেছে। অথচ একদা নিজে বেলা করেই নিদ্রাভঙ্গে অভ ‍ ্যস্ত ছিলেন। গৃহিণীর আদরযত্নে অভাবের সংসারটিও আনন্দময় ছিল। মনোরমার চলে যাওয়ায় অতিপরিচিত নিজের ঘরটিকেও আজকাল বড় শূন ‍ ্য মনে হয়। এই অবস্থায় সঙ্গীত ছাড়া আর কিছুই তাঁর মনকে সান্ত্বনা দিতে অক্ষম। এরপর হাতমুখ ধুয়ে একটু গঙ্গার ধারটাতে এসে বসলেন। এত ভোরে স্নানার্থীদের আসা যাওয়া শুরু হয়েছে। জয় রাধে! জয়রাধে! গাইতে গাইতে সঙ্গে টুংটুং করে খঞ্জনীটি বাজিয়ে দীনু বোষ্টম বৈতালি...

দেখা এবং বর্ণজিৎ বর্মন

Image
  দেখা এবং বর্ণজিৎ বর্মন গাছেরা দেখতে পায় না তবে ঝরনার মতো কাঁদে পূর্ণিমায় যে রাতে চোরা শিকারীরা রুপালি কুঠার হাতে বলে , আজ এই ছয়ফুটি নিমটা বিট অফিসার লবণ সরবত পান করে গরম থেকে বাঁচতে ছলনার টাঁক তবু ফুটতে থাকে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা হয় না ঘুষের টাকায় খাঁচার পায়রাও অচিন দেশে ফিরে গেছে আমি হেমন্তের দর্শক চোখে দেখি এবং গোধূলির শব্দে ঘুম আঁকি, তুমি বন্ধু জলের নদী পেরিয়ে এসো।

পাখি জন্ম @ মৌসুমী মৌ

Image
  পাখি জন্ম @ মৌসুমী মৌ মেঘেদের দলে জুটে দলছুট যে পাখির দল! ইচ্ছের ডানা মেলে বহুদূরে উড়ে যাওয়া ছল... গাছেদের পাড়া ছেড়ে তাদের আজ আকাশেই ঘর … ঘর যাকে পর করে, ভালোবাসা মস্ত জাদুকর l বৃষ্টি হয়তো জানে পাখিদের কান্নার রঙ ! জানলার সার্সিরা জলরঙে সেজেছে যেমন মেঘ হয়তো বোঝে অভিমান কতটা মিশেছে ... পাখিদেরও জানা আছে ভালোবাসা জন্ম ছোঁয়াচে… ডানায় লেপ্টে তবু আদরের মিশুক পালক উদাসীন গাছ জানে পাখিরা আসলে পলাতক … ডানায় যন্ত্রনা তবু মনে মনে পাখি হতে চাওয়া আকাশের গানে কোন বিবাগী সুর ছুঁয়ে যাওয়া ! এভাবেই ছেড়ে যাওয়া পৃথিবীর নষ্ট রূপকথা বুকের গভীরে লেখা লুকোনো ডানার কবিতা ...